নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেশে আত্মত্যাগকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন), দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
তিনি বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী শান্তিরক্ষীদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৮ জন নারীসহ ৩৭ জন কর্মকর্তা ইউএনপোল ও ইউএন জবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে শিগগিরই বাংলাদেশ পুলিশের ৫২৫ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছেন। দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি আফ্রিকা ও ইউরোপের সংঘাতপ্রবণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে এ বছর ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় বাংলাদেশে দিবসটি ১০ জুন পালন করা হচ্ছে।


