নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের সময়ে পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক এআই ইস্টিসনা এবং আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড-সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবন এবং বিএসইসির সাবেক কমিশনার ড. শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে ভর্তুকি ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এ চার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন দাঁড়াতে পারে ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

তিনি জানান, এর মধ্যে তেলে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। সরকার সাধারণ জনগণ, কৃষি ও উৎপাদন খাত সুরক্ষায় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী মহলের অনিয়মিত ঋণ গ্রহণজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত ও ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার নং-৬ (১২ মার্চ ২০২৪) জারি করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব মামলায় দুদক, সিআইডি, এনবিআরের সিআইসি এবং শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।

তিনি জানান, আদালতের আদেশে এখন পর্যন্ত দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকা স্থাবর এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা অস্থাবর সম্পদ।

সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে এখন পর্যন্ত ১৪২টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিতে অভিযোগপত্র এবং ৬টিতে রায় দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।

Share.
Exit mobile version