বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাশ হয়েছে। এর ফলে দলটির যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলো।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে আইনি ভিত্তি দিতেই বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে এই সংশোধনী আনা হয়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিল সংক্রান্ত তুলনামূলক পর্যালোচনার কাগজ (শিট) তারা মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পর্যালোচনার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই আপত্তি নাকচ করে বলেন, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তির আর কোনো সুযোগ নেই। আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, হাতে কাগজ পেতে দেরি হওয়ায় তারা আগে আপত্তি জানাতে পারেননি। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি পাসের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, এটি একটি গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সংশোধনী। তিনি সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জনমতের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই আইনের মাধ্যমে কেবল দলের কার্যক্রমই নিষিদ্ধ নয়, বরং নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন স্থগিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে দল হিসেবে বিচারের পথও সুগম হলো।

নতুন পাশ হওয়া এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাকে নিষিদ্ধ ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর ওই সত্তার পক্ষে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি, মুদ্রণ প্রকাশনা, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে গ্রহণের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিলটি কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই পাশ করা হলো।

Share.
Exit mobile version