ব্যয় সংকোচন এবং এক্সবক্স গেমিং বিভাগে বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) মাইক্রোসফট জানায়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সবক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে শুধু গেমিং বিভাগ থেকেই প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মী ছাঁটাই করা হবে। পাশাপাশি চারটি গেম স্টুডিওকে পৃথক বা বিক্রি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং আরও একটি স্টুডিওর ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বিপুল বিনিয়োগের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইক্রোসফট। এআই-সক্ষম ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশমিক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানকেও নিজেদের কার্যক্রম পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, ছাঁটাই হওয়া পদগুলো এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে না। তবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রসারের কারণে প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাচ্ছে।
মাইক্রোসফট আরও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ঘোষিত ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার প্রকৌশলীকে বিভিন্ন করপোরেট গ্রাহক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করা হবে, যাতে তারা এআই প্রযুক্তি গ্রহণে আরও দ্রুত এগিয়ে আসে।
এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশা শর্মা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। বাকি কর্মী ছাঁটাই ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
২০২৪ সালে ৬৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণের পর থেকেই এক্সবক্স বিভাগে একাধিক দফায় কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। শর্মা বলেন, বর্তমানে এক্সবক্সের মুনাফার হার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অনেক কম। তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কমপালশন গেমস ও ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অন্যদিকে নিনজা থিওরি ও আনডেড ল্যাবস নতুন মালিকানায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সভিত্তিক আরকেইন স্টুডিওর ভবিষ্যৎ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে, যা বিক্রি বা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

