নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক জটিল সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। বিশেষ করে হকার উচ্ছেদ এবং অটোরিকশার লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি একটি প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বার্থান্বেষী মহলের নানামুখী তৎপরতায় শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার মতো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্থায়ী যানজট এবং ফুটপাত দখলকারী হকারদের কারণে সাধারণ নগরবাসীর চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিলেও চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী তাকে নাজেহাল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও সাধারণ নাগরিকেরা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
শহরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা—সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য অপসারণ ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এখন প্রশাসকের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের ফলে এই সমস্যাগুলো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একটির সমাধান করতে গেলে অন্যটি সামনে চলে আসে।
কাউন্সিলরবিহীন সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসককে প্রায় একাই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘প্রশাসক সহায়ক কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই উদ্যোগের শুরুতেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি কমিটির প্রধান নিজেকে কার্যত ‘কাউন্সিলর’ হিসেবে প্রচার শুরু করায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাখাওয়াত হোসেন খানের এই মেয়াদের সাফল্য বা ব্যর্থতা কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিতে নয়, বরং সিটি কর্পোরেশনের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সামলে তিনি নাগরিক সেবা কতটা দৃশ্যমান করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

