নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর গেজেট জারি করেছে সরকার। নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এতে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে ওই তারিখ থেকে গেজেট প্রকাশের সময় পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনা সমন্বয় করা হবে।
নতুন বেতনস্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত বেতন ও ৩০ জুন ২০২৬-এ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৫০ শতাংশ।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনস্কেলের পুরো পার্থক্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্টসহ বেতন কার্যকর হবে।
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া নতুন কাঠামো অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রচলিত বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বকেয়া পাওনার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই পদে সন্তোষজনকভাবে আট বছর চাকরি করেও পদোন্নতি না হলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর আরও ছয় বছর চাকরির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। উচ্চতর গ্রেডকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
বিভিন্ন ভাতার হারও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব, বাংলা নববর্ষসহ অন্যান্য ভাতা ৩০ জুন ২০২৬-এ কার্যকর হারে দেওয়া হবে। নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত হারে এসব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রথম ধাপে বিদ্যমান নিট পেনশনের নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি দেওয়া হবে এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণ হারে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
নতুন বেতনস্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার গত ৩১ আগস্ট জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেয়। এরপর অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা হলো।

