বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে স্বস্তির খবর দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামক একটি বড় ট্যাঙ্কার গতকাল পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করেছে। জাহাজটি থেকে ইতিমধ্যে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া ওমান ও মালয়েশিয়া থেকে আরও পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল নাগাদ ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জেটিতে ভিড়েছে। এছাড়া গত বুধবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে হাই সালফার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামক আরেকটি ট্যাঙ্কার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে বার্থিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতেও গতি এসেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত ২ ও ৫ এপ্রিল যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে দুটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে দেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলোর খালাস প্রক্রিয়া চলছে।

আরপিজিসিএল-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, “ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ এসেছে এবং চলতি মাসে আরও সাতটি জাহাজ পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে গড়ে ৬৯ হাজার থেকে ৭০ হাজার টন গ্যাস থাকে, যা দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।”

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩৩টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ জ্বালানি তেল, ৯টি এলপিজি এবং ৮টি এলএনজি বহন করে এনেছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও লোহিত সাগরের সংকটের মধ্যেও নিয়মিতভাবে জ্বালানি পৌঁছানোয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share.
Exit mobile version