নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক নারী ও দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবারের এসব ঘটনায় স্থানীয় এলাকাগুলোতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১৫ মে) রূপগঞ্জ উপজেলার বড়ালু ও কর্ণগোপ দেবই এলাকা এবং বন্দর উপজেলার নলি সাধুর আশ্রম ঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ বলছে, রহস্যজনক এসব মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

রূপগঞ্জে উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম নুর মোহাম্মদ। তিনি বড়ালু এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা বড়ালু এলাকার একটি ঝোপের পাশের ডোবায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, নুর মোহাম্মদের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

একই দিন কর্ণগোপ দেবই এলাকার পাকা রাস্তার পাশ থেকে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ মহজমপুর এলাকায় নলি সাধুর আশ্রম ঘাটের সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে একটি যুবকের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজন ব্যক্তি ও নৌকার মাঝির সহায়তায় লাশটি নদীর তীরে নিয়ে আসে।

কামতাল ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শাহাদাত হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকের লাশটি প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে লাশটি নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। স্থানীয়দের মধ্যেও এসব রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Share.
Exit mobile version