বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’। এর ফলে রাজপথের বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো।

বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করে বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়া এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই আইন পাসের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শাসন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হলো।

পাস হওয়া বিলে ‘গণ-অভ্যুত্থানকারী’ বলতে ওই সময়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করে সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এমন কোনো অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করবে।

এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর ‘ওভাররাইডিং’ ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। আইনটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এটি বলবৎ থাকবে।

বিলটি উত্থাপনের সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আপত্তি তুলে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের মধ্যে পার্থক্য করার দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কমিশন যদি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে এই অনুসন্ধান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তিনি কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বশাসিত করার দাবি জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনে বদ্ধপরিকর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কিছু প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকা উচিত নয়। এটি ‘জুলাই জাতীয় সনদে’র একটি অন্যতম অঙ্গীকার।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা ও জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে এই আইনের মাধ্যমে পূর্ণ সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হলো।

Share.
Exit mobile version