বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা

ঘুষ নেওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত দিতে গিয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ইসহাক মিয়ার বাসায় গিয়ে তাকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভয় দেখিয়ে জহিরুল ইসলাম প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে ৩২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্তাধীন হয়। অভিযোগের পর জহিরুল ইসলাম একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং দুই দফায় ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার বাকি টাকা ফেরত দিতে গিয়ে ঘটনাটি মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার রাজি না হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এএসআই জহিরুল ইসলাম সংক্ষিপ্তভাবে জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে রয়েছেন—এরপর তিনি ফোন কলটি কেটে দেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ঘুষের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

অন্যদিকে, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।

Share.
Exit mobile version