নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে দুই আসনেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৭৬ হাজার ৭৭২ ভোট।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জানান, ১৫১টি কেন্দ্রে গড়ে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রাখায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচনের দিন দুপুরে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং উপনির্বাচনটি ‘প্রহসনে’ পরিণত হয়েছে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এছাড়া বাসদের মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। এই আসনে ৫২.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসি।
নির্বাচন চলাকালে বেলা পৌনে তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের জোরপূর্বক সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাঁদের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের তৎকালীন জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় দলটি। অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনটি তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন হওয়ায় এটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

