নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনসহ দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তফসিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছিল, যেখানে আজ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এই আসনে পুনরায় গণভোটের প্রয়োজন পড়ছে না।
বগুড়া-৬ আসনের চিত্র
বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মো. আল-আমিন তালুকদার। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ৮৩৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আসনে ২৫০ জন সেনা সদস্য ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া ৮ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১০টি টিম এবং পুলিশ ও আনসারের তিন হাজারেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
শেরপুর-৩ আসনের পরিস্থিতি
শেরপুর-৩ আসনেও প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন—বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান। এই আসনে ১২৮টি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার।
নিরাপত্তার খাতিরে এখানে ১৪০ জন সেনা সদস্যের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ইসির প্রস্তুতি
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম এবং ইসির নিজস্ব ৩৬ জন পর্যবেক্ষক মাঠে রয়েছেন। এছাড়া চার শতাধিক স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রায় ৫ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত রয়েছেন। দুটি আসনেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

