বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করলেও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

 জাতিসংঘের ‘গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতি ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যপূরণে অগ্রসর হচ্ছে এবং আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিনটি মানদণ্ডই ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের পর টেকসই অবস্থান ধরে রাখতে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা জরুরি।

বিশেষ করে বাণিজ্য ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর আশঙ্কাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের রপ্তানির বড় অংশই এলডিসি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, যা উত্তরণের পর কমে যেতে পারে।

এছাড়া রাজস্ব কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘ আরও বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত—এসব বাহ্যিক চাপ বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদনে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়ানো ও আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, কার্যকর প্রস্তুতি ছাড়া এই অগ্রগতি টেকসই করা কঠিন হতে পারে।

Share.
Exit mobile version