নিজস্ব সংবাদদাতা
একসময় স্বচ্ছ পানির জন্য পরিচিত নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল খাল এখন মারাত্মক দূষণের কবলে পড়েছে। খালের পানি গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছে, বিভিন্ন স্থানে ভাসছে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও কচুরিপানার বিশাল স্তর জমে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালপাড়জুড়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় কচুরিপানা, প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি বর্জ্যের স্তূপ। পানির অস্তিত্ব যেন আবর্জনার নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের ১ নম্বর বাবুরাইল খালের এমন ভয়াবহ চিত্র স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার অনিয়মিততার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাসা-বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করতে কর্মীরা নিয়মিত না আসায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খালের পাশে কিংবা পানিতেই ময়লা ফেলছেন।
এছাড়া খালের দুই পাশে থাকা দোকানপাট থেকেও প্রতিদিন প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একাংশ নিজেদের অসচেতনতাকেও দায়ী করছেন। তাদের দাবি, ভোরবেলা কিংবা রাতের আঁধারে অনেকেই চুপিসারে খাল ও এর পাড়ে ময়লা ফেলছেন। শুধু খাল নয়, আশপাশের ফুটপাতও ময়লায় ভরে গেছে, ফলে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নূরতাসির বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না, যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকে। নাক চেপে চলতে হয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন, সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন। মূলত মানুষের অসচেতনতার কারণেই এই অবস্থা।”
এদিকে খালের কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে মাছ চাষের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানান, “এটি সরকারি খাল হলেও এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এখানে মাছ চাষ করছেন। পানিতে বস্তা ভাসিয়ে মাছের খাবার দেওয়া হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানি বলেন, “এটা আমাদের সম্পদ, রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। তবে ময়লা ফেলার বড় কারণ হচ্ছে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না হওয়া। খালের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন বসানো হলে মানুষ বাধ্য হয়ে ময়লা পানিতে ফেলবে না।”
বাবুরাইল থেকে দেওয়ানবাড়ি পর্যন্ত পুরো খালজুড়ে কচুরিপানার বিস্তার দেখা গেলেও পরিষ্কারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত খালটি পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানি ও দর্শনার্থীদের অসচেতনতার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের তদারকির ঘাটতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খালটি সম্পূর্ণরূপে মৃত জলাশয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

