দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন এই নির্দেশনায় প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে একাধিক তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে অন্তত পাঁচজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে ন্যূনতম একজন মেডিকেল অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমেও চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে, অথবা ভুয়া কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। এতে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে।

