বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির বলেছেন, শহরের মন্ডলপাড়া এলাকায় অন্তত ৪০০ বছরের পুরনো দাবি করা এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যদি সঠিক ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য পাওয়া যায়।

গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে মসজিদটি পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের তিনি এই আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা মসজিদটিকে অন্তত ৪০০ বছরের পুরনো বলে দাবি করেন। এ এলাকায় পরে আরও একটি মসজিদ নির্মাণ করা হলেও, মূল এক গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনাটি আগের মতোই রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পাশের জেলা মডেল মসজিদ নির্মিত হলেও এই পুরাতন মসজিদটি ভাঙা হয়নি। স্বল্প মুসুল্লি ধারণক্ষমতার মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ‘জ্বিনের মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।

ডিসি রায়হান কবির বলেন, “কয়েকদিন ধরে মসজিদটির কথা শুনছি। সংবাদমাধ্যমে এটি পুরোনো একটি মসজিদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। শুনেছি, এটি ১৪৮২ সালে স্থাপিত হয়েছে। তবে এখানকার সরাসরি কোনো ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকায় নাম নেই। এখানে এসে জ্বিনের নামাজ পড়ার কথাও শুনেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার পর্যটন খাতের কাজের জন্য এই ধরনের স্থাপনা দেখা প্রয়োজন। পরিদর্শন শেষে গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মাজারে যাব। যদি এটি সুলতান শাহ আমলের সময়ের হয়, যেমন শাহী মসজিদ বা ওই আমলের অন্য স্থাপনা, তাহলে সংরক্ষণে আমাদের আরও কাজ করার সুযোগ থাকবে।”

ডিসি জানান, “বিশেষ করে যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো, মসজিদটির সত্যিকার কোনো সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে কি না। তথ্য পাওয়া গেলে আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি সংরক্ষণ করতে পারবো। একই সঙ্গে এটিকে জেলার পর্যটন সেক্টরের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে ইতিহাসও রক্ষিত থাকবে এবং জেলার ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।”

মসজিদ পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এসএম ফয়েজ উদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার আরিফ ইশতিয়াক উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Exit mobile version