নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে উল্লেখ করে এর পেছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীদের এক বিশাল সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো অন্যায়ের বিচার ও শাস্তির জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে, কিন্তু একটি বিশেষ মহল সাম্প্রতিক কিছু দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। আমাদের অবস্থান প্রথম থেকেই স্পষ্ট আইনের দৃষ্টিতে যে-ই অপরাধী হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। কিন্তু এই বেদনাদায়ক ঘটনাকে পুঁজি করে যারা আজ জল ঘোলা করতে চাইছে, তারা আসলে আইনের শাসনকেই বাধাগ্রস্ত করছে।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও যখন কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল, তখন বিএনপি পাশে দাঁড়িয়েছিল, দলের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েছেন এবং আইনজীবীরা আইনি সহায়তা করেছেন। কিন্তু আজ যারা মাঠ গরম করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে, সেদিন তাদের কোথাও দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী কড়া সমালোচনা করে বলেন, “তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের ক্ষমতা দিয়েছে, সেই জন্যই কোনো কোনো মহলের মনে জ্বালা হচ্ছে? আর এই জ্বালার কারণেই তারা নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে?”
তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক রাজপথের আন্দোলনের মুখে যাদেরকে এ দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছিল, বর্তমান অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের সাথে সেই স্বৈরাচারী শক্তির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে তারা ’৮৬ ও ’৯৬ সালে করেছিল, ঠিক একইভাবে এখনো অপতৎপরতা চালাচ্ছে এবং এদের সাথে এখন নতুন কয়েকটি ‘সুন্দর ছোট ছোট লেজ’ গজিয়েছে।
গণতন্ত্র ও অধিকার পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা এই দেশ থেকে সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, যে মানুষের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়ন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এখন বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে দেশ গঠন করতে চায়, নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আর এই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রম ও উৎপাদনে সক্রিয় করে তুলতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে এ দেশের আসল মালিক জনগণ। তাই গুটিকয়েক মানুষের ছিনিমিনি খেলা আর বরদাশত করা হবে না। যারা জনগণের পাশে থাকবে, জনগণ তাদের নিয়েই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। “আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে, আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমরাই রক্ষা করব,” বলে তিনি ইনশাআল্লাহ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে সরাসরি খালের পাড়ে গিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরিবেশ সুরক্ষার প্রতীকী বার্তা হিসেবে তিনি খালের পাশে একটি তালগাছের চারাও রোপণ করেন।


