মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। সভার শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ একটি প্রযুক্তি-চালিত ও এআই-ভিত্তিক (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নিয়োগ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এই পদ্ধতির  প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গাইডলাইন অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’ (Employer Pays Principle) নীতি বাস্তবায়ন করা। ফলে কর্মীদের জন্য অভিবাসন খরচ শূন্যে নামিয়ে আনার পথ সুগম হবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন জানান, তাঁর দেশ সকল উৎস দেশের জন্য একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে, যাতে শ্রমিকদের শোষণ রোধ করা যায়। বাংলাদেশ এই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেসব কর্মী আগে আবেদন করেও আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও অনিয়মিত কর্মীদের সমস্যা সমাধান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

শ্রমবাজারের পাশাপাশি শিক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে এবং সাশ্রয়ী ব্যয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হবে।

Share.
Exit mobile version