বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধ ও বিভাজন নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সংলাপের পরও ঐকমত্য না আসা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক।”

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. আসিফ নজরুল জানান, গণভোট সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবারের ক্যাবিনেট সভায় সাধারণ আলোচনা হয়। তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, এক, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আওতায় ২৭০ দিনের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন কার্যকর হবে; দুই, এ দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু কোন বিকল্পটি গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে আল্টিমেটাম দেয় বা সরকারকে জোর করে তাদের অবস্থান সমর্থন করাতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এখন তাদের এই অনৈক্য জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

ড. নজরুল জানান, শুধু বিষয়বস্তুর ওপর নয়, এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রক্রিয়া নিয়েও। “একটা বিরোধ হচ্ছে— কীভাবে প্রস্তাবটি পাস করা হবে; আরেকটা হচ্ছে গণভোট কবে হবে। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন, তারাই এখন পরস্পরবিরোধী ও উত্তেজিত অবস্থান নিয়েছেন,” তিনি বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা যদি এইভাবে বিভক্ত থাকেন, তাহলে সরকার কী করবে? এতদিন আলোচনার পরও যদি ঐকমত্যে না পৌঁছান, তাহলে আমাদের ভাবতে হচ্ছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।”

গণভোটের সময় ও সিদ্ধান্ত কে নেবেন এই প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আমরা তাকে সহায়তা করব। সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কারও হাতে থাকবে না— প্রধান উপদেষ্টাই পরামর্শ ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন, এবং খুব দ্রুত নেবেন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল সংবিধান সংস্কার ও গণভোট আয়োজন। এ লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পরও এখন পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

Share.
Exit mobile version