নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া—এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয়নি, কখনো নেবেও না।”

তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে দলের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রিজভী জানান, শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সচল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে জিয়াউর রহমান নতুন গতি এনে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “আগ্রাসী শক্তিরা বুঝতে পেরেছিল, জিয়া ক্ষমতায় থাকলে এ দেশে আধিপত্য বিস্তার সহজ হবে না। এজন্যই তাকে হত্যা করা হয়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেই ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই এবং বিভিন্নভাবে তা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, এবারের ঈদে সরকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক না হলেও তা খারাপ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share.
Exit mobile version