নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে রোববার দিবাগত মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে র্যাব ও পুলিশের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে রাত ৩টা থেকে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য চারদিক থেকে এলাকা ঘিরে অভিযান চালাচ্ছেন। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য স্থাপিত অস্থায়ী র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে পাহাড়ের ভেতর থেকে আচমকা গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। আকস্মিক এ হামলায় ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত র্যাব ও পুলিশের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হন।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তথ্য ও তদন্ত অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও তার বাহিনী এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর পর সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের কয়েকটি ভেতরের সড়কের মাটি কেটে ফেলে এবং কিছু কালভার্ট ভেঙে দেয় বলে জানা গেছে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় তিন দশক ধরে দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তারা পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করেছে। পাশাপাশি জলবায়ু উদ্বাস্তুদের স্বল্পমূল্যে ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে অস্ত্র, জলদস্যুতা ও মাদককেন্দ্রিক অপরাধচক্র গড়ে তোলে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাবি করেছিলেন, সরকার এলাকাটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৮ মে নবনিযুক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা সহযোগিতা করলে কোনো বাপের বেটার ক্ষমতা নেই এখানে কিছু করার।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে অপরাধমুক্ত করে সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক প্রশিক্ষণ একাডেমি, কেন্দ্রীয় কারাগারসহ একাধিক সরকারি স্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
এদিকে আগামী ৩০ মে পুলিশের আইজিপির জঙ্গল সলিমপুর সফরের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সেই সফরের আগে নিজেদের অস্তিত্ব ও আধিপত্য জানান দিতেই ইয়াসিন বাহিনী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর এ হামলা চালিয়েছে।


