বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক-এর আনা জন-গুরুত্বসম্পন্ন মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার গঠন, সংসদ এবং সংসদ সদস্য—সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী এসেছে। কিন্তু এখন সংবিধান উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?”

তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে “লেজিসলেটিভ ফ্রড” ও “কালারেবল লেজিসলেশন” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৩৩টি রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত সনদটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদেশে সব সম্মত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের প্রয়োজন নেই; বরং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা অংশ নিতে পারেন।

পঞ্চম সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে অন্তর্ভুক্ত পঞ্চম সংশোধনী পরে বাতিল করা হয়েছে—এটি পুনর্বহালের বিষয়ে বিরোধীদের অবস্থান কী?”

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আলাদা কোনো পথ অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “সংবিধানের সীমা অতিক্রম করে কোনো আইন কার্যকর হতে পারে না। জুলাই সনদ জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতিফলন, এটি কোনো দলীয় দলিল নয়।”

এদিকে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, একই ধরনের প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু তার অগ্রগতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

আলোচনায় আরও অংশ নেন গাজী এনামুল হক, আখতার হোসেন, নাজিবুর রহমান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং আন্দালীব রহমান।

এর আগে ১ এপ্রিল জয়নুল আবদিন ফারুক প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল এবং এটি দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দলিল।”

Share.
Exit mobile version