বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ব্যয় কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়িঋণ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ ৩০ শতাংশ কমানোসহ একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সরকার।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল।

গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পান। এছাড়া গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাতা এবং বার্ষিক ১০ শতাংশ অবচয় সুবিধাও পেয়ে থাকেন তারা।

নতুন নির্দেশনায় এই ঋণ সুবিধার পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে সব বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত খরচ ৫০ শতাংশ, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচ ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার ও কনফারেন্সের খরচ ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হবে।

ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যবহৃত সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ এবং সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহারও সমপরিমাণ কমানো হবে।

এছাড়া সরকারি খাতে সব ধরনের গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন খরচ ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

Share.
Exit mobile version