বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়লে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মন্দার প্রভাবে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতিমধ্যে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফের অর্ধবার্ষিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও নিয়ন্ত্রণে আসে, তবু ধনী দেশগুলোর মধ্যে এ বছর যুক্তরাজ্যেই প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমবে এবং মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়ে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো মারাত্মক মন্দার মুখে পড়বে।

আইএমএফের এই সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস। আইএমএফের বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটন যাওয়ার আগে তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে বলেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও যুদ্ধের ময়দান থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা বা ‘এক্সিট প্ল্যান’ ছাড়াই কোনো সংঘাতে জড়ানোটা বোকামি। যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগাম পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধে জড়িয়েছে যার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে যুক্তরাজ্যকে।

আইএমএফ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমলেও জ্বালানি আমদানিকারক ও উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্পের স্ববিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে ২.৩ শতাংশে নামিয়েছে সংস্থাটি। তবে যুক্তরাজ্যের জন্য এই পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক; দেশটির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি সরকারি লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনকাস সতর্ক করে বলেন, প্রতিদিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি একটি নেতিবাচক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে যাকে বিশ্বমন্দার সমতুল্য ধরা হয়। ১৯৮০ সালের পর এমন পরিস্থিতি কেবল চারবার দেখা গেছে, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২০ সালের করোনা মহামারি ও ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার সময়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। গৌরিনকাস আরও বলেন, ঢালাও ভর্তুকি বা দাম বেঁধে দেওয়ার মতো জনপ্রিয় সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই অকার্যকর ও ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়, এর পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক ও অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Share.
Exit mobile version