মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে এই দণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরস্ত্র আবু সাঈদকে যেভাবে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে, তা ছিল বর্বরোচিত। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষার্থীর বুকে সরাসরি গুলি করার ঘটনাটি কেবল হত্যাকাণ্ড নয়, এটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ। ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, পুলিশ একের পর এক গুলি চালিয়ে তাঁকে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, যা সারা দেশে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এই মামলায় মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। বাকি চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।

মামলার বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ ছাড়াও দুই শিক্ষক, একাধিক কর্মকর্তা এবং রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়াসহ সংগঠনটির আরও সাতজন নেতা এই মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করে। ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।

আদালত তাঁর রায়ে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও নির্দেশদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

Share.
Exit mobile version