আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ইরানে আবারও আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংযোগ সীমিত রেখেছিল তেহরান। অবশেষে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবস্থা।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্দেশে সোমবার থেকে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পুরো দেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গতিতে ইন্টারনেট ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ ৮৮ দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ ও জনদুর্ভোগের কারণেই শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার।

নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটগুলোর অন্যতম ছিল ইরানের এই পরিস্থিতি। যদিও সংযোগ চালু হয়েছে, তবুও অনেক এলাকায় এখনো ধীরগতির ইন্টারনেট, সীমিত অ্যাকসেস এবং ভিপিএন-নির্ভর ব্যবহারের সমস্যা রয়ে গেছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্টারনেট পুনরায় চালুর মধ্যেই দেশটির সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হলে ইন্টারনেট সংযোগে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী সাইয়্যেদ সাত্তার হাশেমি বলেছেন, জনগণের যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তবে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে সংযোগ কতটা স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক থাকবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Share.
Exit mobile version