নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৮ দফার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করেন।

নির্দেশনায় আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটিকালীন সময়ে জরুরি ও প্রসূতি সেবাসহ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সচল রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাবলীতে বলা হয়েছে, ঈদের দিনগুলোতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বিবেচনা করে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম (প্রসূতি বিভাগ), ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটারসহ ল্যাব, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখতে হবে।

ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও জরুরি চিকিৎসাসেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—সব স্তরেই এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে।

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ‘অনকল’ বা জরুরি তলব সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকাল—দুই বেলা বাধ্যতামূলকভাবে ওয়ার্ড রাউন্ড দিতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটি শুরুর আগেই হাসপাতালে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত করার পাশাপাশি স্টোর কিপারদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রোগীদের যাতায়াতের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম চিঠি দিয়ে রাখতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালের বহিঃবিভাগ বা ওপিডি সেবা কোনো অবস্থাতেই একটানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এই নিয়ম বজায় রাখতে আগামী ২৬ মে ও ৩০ মে হাসপাতাল খোলা রাখার বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে কি না, তা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরাসরি তদারকি করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকেও নিবন্ধিত চিকিৎসকের অধীনে জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ সচল রাখা, পশুর হাটসংলগ্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমে জানানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share.
Exit mobile version