আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের ক্ষেত্রে এক নতুন গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছেন নেপালের দুই কিংবদন্তি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপা ও লাখপা শেরপা। দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা, অদম্য ইচ্ছা আর অসাধারণ সাহসিকতাকে পুঁজি করে তারা একই দিনে নিজেদের গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় আরোহণ করেছেন।

নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, গত রবিবার (১৭ মে) ৫৬ বছর বয়সী কামি রিতা শেরপা বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে ৩২তম বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। একই দিনে ৫২ বছর বয়সী নারী পর্বতারোহী লাখপা শেরপা ১১তম বারের মতো সফলভাবে চূড়া জয় করে নারীদের বিভাগে নিজের একক আধিপত্য ও বিশ্ব রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন।

কাঠমান্ডু থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নেপালের পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম এই যুগল অর্জনকে দেশটির পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই দুই প্রবীণ শেরপার অনন্য সাফল্য বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করবে। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের বিশ্ব রেকর্ড অর্জন পর্বতারোহণ খাতকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের সবচেয়ে সফল এভারেস্ট আরোহী কামি রিতা শেরপা প্রথম ১৯৯৪ সালে একটি বাণিজ্যিক অভিযানের গাইড হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছিলেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিযাত্রী দলগুলোকে পথ দেখিয়ে হিমালয়ের চূড়ায় নিয়ে যান। অবিশ্বাস্য এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি আজ নিজেকে পর্বতারোহণ জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত করেছেন। অবশ্য এর আগে এক সাক্ষাৎকারে কামি রিতা বিনয়ের সাথে জানিয়েছিলেন যে তিনি মূলত পাহাড়ে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন এবং রেকর্ড গড়ার জন্য আলাদা কোনো পূর্বপরিকল্পনা তাঁর থাকে না।

অন্যদিকে ‘মাউন্টেন কুইন’ বা পর্বতের রানী নামে খ্যাত লাখপা শেরপা প্রথম ২০০০ সালে এভারেস্ট জয় করেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত জয় করে নিরাপদে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসা প্রথম নেপালি নারী হিসেবে তিনি তখনই ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন। এবার ১১তম বারের মতো চূড়ায় উঠে তিনি বিশ্বমঞ্চে নারীদের পর্বত অভিযানের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।

১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের তেনজিং নোরগে শেরপার প্রথম ঐতিহাসিক এভারেস্ট বিজয়ের পর থেকে হিমালয় অভিযান বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লাভজনক একটি খাতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে অভিজ্ঞ শেরপাদের পেশাদার দক্ষতা ও অসীম সাহসিকতাই যেকোনো আন্তর্জাতিক এভারেস্ট অভিযানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এভারেস্ট আরোহণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৯২টি অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে যার কারণে এভারেস্টের পাদদেশে ইতিমধ্যে অভিযাত্রী ও তাঁদের সহায়তাকারী কর্মীদের নিয়ে একটি বিশাল তাঁবুর নগরী গড়ে উঠেছে।

Share.
Exit mobile version