নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আবারও বড় চমক নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল কৃষক সমাবেশে তিনি দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কৃষি খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষকদের সরাসরি ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচিকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে পৌঁছে সন্তোষে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশব্যাপী ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রমের সূচনা করবেন। উদ্বোধনী দিনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১ হাজার ৫০০ জন কৃষকের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেবেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টায় টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষিমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।
সরকার জানিয়েছে, ‘কৃষক কার্ড’ মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ কেনা, সুলভ সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি এবং সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাবেন। এছাড়া কার্ডধারী কৃষকরা মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ-বালাই দমনে পরামর্শ এবং কৃষি বিমা ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুবিধা ভোগ করবেন।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১১টি কৃষি ব্লকের ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে এই ডেবিট কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। যার মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন। এই তিন শ্রেণির কৃষকরা কার্ডের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন। কার্ডধারীরা ডিলারদের কাছে থাকা ‘পয়েন্ট অব সেল’ (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে স্বচ্ছতার সাথে কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রথম পর্যায়ে পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলার নির্দিষ্ট কিছু ব্লকে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগস্ট মাস থেকে দ্বিতীয় ধাপে ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হবে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে সারাদেশের সকল কৃষককে এই ডাটাবেজ ও কার্ডের আওতায় আনা হবে।
বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার পর এটি সরকারের চতুর্থ বড় জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ। উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ৩০ মার্চ ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’ উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া গত ১৪ মার্চ থেকে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ১ হাজার ৫৩০ জন ধর্মগুরুকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।


