বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলোয়াড়দের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্বই হওয়া উচিত তাদের প্রধান লক্ষ্য।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের উচিত ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্যের পথে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি স্বীকৃত পেশা। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রীড়াখাতকে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খেলাধুলায় পরাজয়কে সাফল্যের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যর্থতা থেকেই শেখার সুযোগ তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।

সরকার খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় বেতন কাঠামো চালুর কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা যেন আর্থিক অনিশ্চয়তা ছাড়াই তাদের পছন্দের খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু হওয়ার কথাও জানান তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হলো বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদেরও এই সুবিধার আওতায় আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার জন্য ক্রীড়া’—এই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, কাবাডি, টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খেলায় সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য আসবে।

তিনি জানান, খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুনভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন চাপার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে ক্রীড়াবিদদের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করেন। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীদের সম্মাননা জানান।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

Share.
Exit mobile version