নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার দেশের সব মহানগরে এবং পরদিন রোববার জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি গণভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে জুলাই সনদের সঙ্গে ‘ছলচাতুরী’ করছে। জোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও নির্বাচিত সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের ম্যান্ডেটকে শুধু উপেক্ষা নয়, বরং সংসদের ভেতরে-বাইরে এ নিয়ে অপমানজনক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
মামুনুল হক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের মতো সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর না করা অত্যন্ত হতাশাজনক। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী দল বিএনপি এখন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায়ই এখন সর্বোচ্চ আইন হওয়া উচিত। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো একজন ব্যক্তির মনগড়া ব্যাখ্যায় জাতি বিভ্রান্ত হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সংকট সংসদে সমাধান করা সম্ভব, সরকার তা রাজপথে ঠেলে দিলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

