দেশের আলো ডেস্ক
চলতি জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফরকালে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ), স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য (টাকা–ইউয়ান) সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কাঠামোর আওতায় ২৩ খাতভিত্তিক একটি সহযোগিতা পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। খসড়াটিতে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অবকাঠামো ও সামুদ্রিক অর্থনীতিসহ ২৩টি খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এটি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি খাতে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ব্যবস্থাপনা, সাইবার অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–ভিত্তিক সহযোগিতার প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে এফটিএ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব। এই আলোচনা সফল হলে দুই দেশের বাণিজ্যে শুল্ক কাঠামো ও বাজার প্রবেশাধিকারে পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি এবং ব্যাংকিং সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে ডলার নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিস্তা প্রকল্পটি সরাসরি খসড়ায় থাকছে না। তবে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগিতার প্রসঙ্গ আলোচনায় থাকবে বলে কূটনৈতিক সূত্রের ধারণা। আর এই আলোচনার সূত্র ধরেই আলোচনার টেবিলে আসতে পারে তিস্তা প্রকল্পের আলাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সফর বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পর্যায়ে নিতে পারে, যেখানে এফটিএ, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও ডিজিটাল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


