নিজস্ব সংবাদদাতা
অল্প সময়ের ব্যবধানে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো তিনটি বড় আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মুন্সী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর তদারকিই এই সাফল্যের মূল কারণ।
সরেজমিনে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলায় ২৫টি ঈদগাহ ময়দান এবং প্রায় ৪ হাজার মসজিদে সাড়ে ৮ হাজারের বেশি ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিরা জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায় করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে সড়কে যানজট এড়াতে প্রায় ৬০০ পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে মহাঅষ্টমী স্নান উৎসবে দেশি-বিদেশি লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। ভক্তরা ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করেন। এ উপলক্ষে নদীর দুই তীরে ২৪টি স্নানঘাটে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি স্থলপথে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচি পালিত হয়। চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনটি আয়োজন সামনে রেখে আগেই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন, সিসিটিভি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। ফলে যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে তিনটি বড় আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের দক্ষতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসনের পেশাদার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের কারণে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। এতে জেলাবাসীর আস্থা আরও বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

