নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাই করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জে ফিরে যাওয়ার কৌশল অবলম্বনকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাম্প্রতিক এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ার হোসেন এবং জুয়েল ওরফে আরিফ।

পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোরে ঈদের ছুটি শেষে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে নিজ বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই বোন। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের ট্রলি, হ্যান্ডব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এডিসি ফজলুল করিম বলেন, চক্রের সদস্যরা একসময় মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করায় এখানকার অলিগলি ও চলাচলের পথ সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা প্রায় ছয় মাস আগে নারায়ণগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

তিনি জানান, চক্রের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ ভ্যানে করে গভীর রাতে মোহাম্মদপুরে আসতেন। ছিনতাই সংঘটিত করার পর একই যানবাহনে দ্রুত নারায়ণগঞ্জে ফিরে যেতেন। এতে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ত।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ছিনতাই হওয়া ট্রলি ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পিকআপের চালক ও মালিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্র একই কৌশলে মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তারা সাধারণত রাত ২টার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে রাজধানীতে এসে অপরাধ সংঘটিত করত।

এদিকে, গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মাদক মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংশ্লিষ্ট দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে সক্রিয় আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Share.
Exit mobile version