মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে অন-ডিউটি এক পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

তিনি বলেন, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকুসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, সোমবার সকালে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগরভবনের সামনে পোশাক পরা অবস্থায় অন-ডিউটি থাকা এক পুলিশ সদস্য ছিনতাইয়ের শিকার হন। সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা তার সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরপরই অস্ত্র উদ্ধারে সারাদিন ও রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, শেষ পর্যন্ত রাত আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে বন্দর এলাকা থেকে মিশাল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো স্থান থেকে ছিনতাই হওয়া পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আরও দু’জনকে আটক করা হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য লুৎফর রহমান এ ঘটনায় থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মিশালকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কি না সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইডসহ বিশেষ অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, “নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছি।”

রমজানের দিনগুলোতেও একইভাবে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, মানুষ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং নগরবাসী এই শহরকে নিরাপদ মনে করে—সেটি নিশ্চিত করতেই পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

Share.
Exit mobile version