নিজস্ব সংবাদদাতা
দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আবহে আজ ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শীর্ষ নেতারা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। এর আগে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রমনা বটমূলে এই রাজনৈতিক দলটি গঠন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার পর রুদ্ধ হওয়া বহুমাত্রিক গণতন্ত্র, মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতেই বিএনপির জন্ম হয়েছিল।
বাণীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান। দীর্ঘ শাসন-শোষণের পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে বিএনপি অতীতেও অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামীতেও জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে সারা দেশে জেলা, মহানগর ও ইউনিট পর্যায়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এসব বহুমুখী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি একটি স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

