নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসানের পর জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান। এই বার্তায় দলটির এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় জনগণের সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাণীতে দল প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুমাত্রিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকার রমনা বটমূলে বিএনপি গঠন করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দেশে যে নতুন পথচলা শুরু করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁর অবিচল নেতৃত্বেই দলটি আজ দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি সব সময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিগত দিনে দেশের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা অকাতরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অতীত ইতিহাস টেনে তিনি উল্লেখ করেন, যখনই জনগণ নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা বিএনপিকে দেশ পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপি সরকারের আমলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারীশিক্ষার প্রসারের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
দেশের জনগণকেই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দৃঢ় প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতেও দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও সমর্থক দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিঃস্বার্থভাবে নিবেদন করবেন। বিএনপির অপর নাম একটি গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

