মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক যুবদলকর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর বাড়িতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়। হামলায় মোহাম্মদ হোসেনসহ তাঁর পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মোহাম্মদ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতি পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ এলাকায় কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে।
পরে সন্ধ্যায় একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। হামলার সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে।
এ সময় মোহাম্মদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাঁর মা নূর বানু, স্ত্রী তুলি আক্তার ও বোন ইয়াসমিনকেও মারধর করা হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত মোহাম্মদ হোসেনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়িতে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে ঘরে ঢুকে তাঁর ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
তালতলা বাজার তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক সেলিম মিয়া জানান, হামলা ও গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হামলায় এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তালতলা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন জানান, মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবার গুলিবর্ষণের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

