মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যাঁরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় ’২৪ ও ’৭১–কে একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই—’৭১ কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসংগ্রাম।’
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, ভূমিকা রেখেছেন এবং ছাত্রনেতৃবৃন্দ যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, সবার অবদানকে আমরা স্বীকৃতি দিই। এটাই আমাদের উদারতা। আমরা কারও বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে চাই না, কারও ভূমিকাকে কেড়ে নিতে চাই না। কিন্তু সবাই মিলে একাত্তরকে আমরা আগে সম্মান করব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমুন্নত রাখব। তারপর আসবে ’৭৫, ’৭৯, ’৯০, ’২৪—সবকিছু।’
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতনের জন্য যে আন্দোলন হয়েছে, সেটি ছিল জনদাবির আন্দোলন। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র নতুনভাবে বিনির্মাণ হয়নি। রাষ্ট্র আমাদের ছিল, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে, যাতে কোনো স্বৈরাচার বাংলাদেশে আবার প্রতিষ্ঠিত না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রবর্তন ও চর্চার মাধ্যমে, আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বাধীনতার চেতনার একমাত্র ধারক-বাহক দাবি করত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে গণহত্যার সূচনা হয়। সেই রাতেই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এ ঘোষণার বিষয়টি প্রমাণিত। ‘তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন বইপত্রেও তা উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭৭ সালে ভারতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রপতিও তাঁর ভাষণে এ কথা বলেন।’
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

