মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

রোম থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটি বলেছে, তাদের ‘খাদ্য মূল্য সূচক’, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মাসিক দামের পরিবর্তন পরিমাপ করে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে ২.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বৃদ্ধি, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানায়, অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববাজারে শস্যের ‘মোটামুটি স্বস্তিদায়ক’ সরবরাহ থাকায় সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, “সংঘাত শুরুর পর থেকে দাম বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, যা মূলত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে হয়েছে এবং বৈশ্বিক শস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রভাব কমিয়েছে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং সারের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে কৃষকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কম উপকরণ দিয়ে চাষ করা, আবাদ কমানো অথবা কম সারনির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়া।

তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে এবং চলতি বছর ও আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।”

এ ছাড়া উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্নের কারণে গম ও ভুট্টার বাজারে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে এফএও।

Share.
Exit mobile version