লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে। জুন মাস শেষে মোট রাজস্ব সংগ্রহ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
সোমবার (২২ জুন) এনবিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্ব আদায়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০ জুন পর্যন্ত (১১ মাস ২০ দিন) শুল্ক ও কর বাবদ মোট ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। মাসের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি। সেই হিসাবে অর্থবছর শেষে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যেতে পারে। রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, এসব টাস্কফোর্স আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি কর আদায় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হলে সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। কারণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের মতো পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত।
এ অবস্থায় সাধারণত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পগুলোর ব্যয় কমিয়ে আনা হয়। চলমান অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। অর্থসংকট দেখা দিলে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমানোই সরকারের অন্যতম প্রধান বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত নিম্নমুখী। বর্তমানে তা ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বেশ কম বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


