মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষকে ঐক্যের সর্বজনীন উৎসব হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বিগত বছরের গ্লানি ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক। বৈশাখের আগমন মানুষের জীবনে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে। নববর্ষের এই আনন্দক্ষণে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে তিনি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। মুঘল আমলে প্রবর্তিত ফসলি সনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনাকে তিনি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে আরও সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সব সংকট মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, নববর্ষের উৎসবে সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হয়ে সর্বত্র সত্য ও সুন্দরের জয়গান প্রতিধ্বনিত হবে। বিদায়ী বছরের সব দুঃখ-বেদনা মুছে গিয়ে নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রার্থনা করেন তিনি। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Share.
Exit mobile version