মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় দক্ষিণ এশিয়ায় তার হারানো সাংস্কৃতিক গৌরব পুনরুদ্ধার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বর্ষবরণের এই আয়োজন মূলত বাংলার কৃষকের সংস্কৃতি। এক সময় এ দেশের সমৃদ্ধি ও সংস্কৃতির টানে বিশ্বজুড়ে পর্যটক ও মনীষীরা এখানে আসতেন, কাউকে ভাগ্যান্বেষণে দেশের বাইরে যেতে হতো না। ঐতিহাসিক নানা কারণে পিছিয়ে গেলেও সেই সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে।

উৎসবের প্রথম দিনে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে বিশেষ লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এরপর তিনি উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তির নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবে গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং লোকসাহিত্যের বৈচিত্র্যময় উপকরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে ঢাক-ঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, জারি-সারি, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা ও বৈশাখী মেলাসহ লোকজ সংস্কৃতির প্রায় সব অনুষঙ্গই স্থান পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আজ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী কয়েক দিন ঢাকাবাসীকে লোকজ সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত আবহ উপহার দেবে।

উল্লেখ্য, এবারের আয়োজনে পুতুলনাট্য, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গম্ভীরা ও ভাওয়াইয়া গানের মতো শেকড় সন্ধানী পরিবেশনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার প্রকৃত সংস্কৃতি তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Share.
Exit mobile version