নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সার আমদানিতে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে চলতি মাসেই দেশে পৌঁছাচ্ছে নন-ইউরিয়া সারের বড় কয়েকটি চালান।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেটের (টিএসপি) প্রায় আড়াই লাখ টন সার নিয়ে সাতটি জাহাজ দেশের বন্দরে নোঙর করবে।
আমদানি তথ্যের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি মাসে মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে তিনটি জাহাজ দেশে আসছে। এর পাশাপাশি রাশিয়া ও কানাডা থেকে মোট দেড় লাখ টন এমওপি সারবাহী চারটি জাহাজ চলতি সপ্তাহ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আগামী মাসের চাহিদার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে সরকার। বিএডিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অক্টোবরের চালানগুলোর জাহাজীকরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রবি মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলাতে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে ১০ থেকে ১২টি সারবাহী জাহাজ দেশে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরবর্তী চালানের ঋণপত্রগুলোও দ্রুত খোলার কাজ চলছে।
বিএডিসির হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে দেশে ডিএপির চাহিদা থাকে ১১ লাখ ২৭ হাজার টন, এমওপির ছয় লাখ ৭২ হাজার টন এবং টিএসপির পাঁচ লাখ ১৯ হাজার টন। এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত জিটুজি চুক্তি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সার আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দেশে সারের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়। সারা বছরের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই শীতকালীন সবজি ও বোরো আবাদে ব্যবহৃত হওয়ায় এখনই সরবরাহ ও মজুদের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো অপরিহার্য।
সদ্য শেষ হওয়া আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আশ্বস্ত করেছেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব ও কাতার থেকে আমদানি সাময়িক ব্যাহত হলেও বিকল্প উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করায় আগামী মৌসুমে কৃষকদের আর কোনো অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে না।

