নিজস্ব প্রতিবেদক
আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে আর কোরবানি করা হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্তে মহিষটিকে ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
বুধবার (২৭ মে) বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতেই সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানার উদ্দেশে পাঠানো হয়। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ গণমাধ্যমকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মহিষটিকে কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং চিড়িয়াখানায় রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, বিরল জাতের হওয়ায় এবং মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মহিষটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে এর যথাযথ পরিচর্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর চিকিৎসক মো. আতিকুর রহমান জানান, মহিষটিকে গ্রহণের জন্য চিড়িয়াখানায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জীবাণুনাশক ছিটানোসহ বড় শেডে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহ মহিষটিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে এবং কোনো রোগ আছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে বুধবার বিকালে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে জানান, ওপরের নির্দেশ অনুযায়ী মহিষটি আপাতত থানায় নিয়ে যেতে হবে। পরে মনিরুজ্জামান নিজেই মহিষটিকে থানায় পৌঁছে দেন।
বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছিল। খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই মহিষটির গোলাপি ঢেউখেলানো চুল ও চোখের গড়ন দেখে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নামানুসারে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
চার বছর বয়সী অ্যালবিনো মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড। গত ১২ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতিকেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
সোমবার (২৫ মে) কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান কোরবানির জন্য মহিষটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তার আগে মহিষটিকে বিদায় জানাতে খামারে লালগালিচা বিছানো, রঙিন ধোঁয়া উড়ানো ও রাজকীয় আয়োজন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মহিষটি নেওয়ার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, সরকার জানিয়েছে মূল্য পরিশোধ করা হবে, না হলে কোরবানির জন্য বিকল্প পশু দেওয়া হবে।
মহিষটি নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ফ্রান্সের গণমাধ্যম টিএফওয়ানের ফেসবুক পেজে মহিষটি নিয়ে তৈরি একটি রিল ৬২ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। মে মাসজুড়ে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে গিয়ে মহিষটি দেখতে ভিড় করেন।
মহিষটির বিশেষ সাদা রঙ সম্পর্কে আতিকুর রহমান বলেন, শরীরে রঞ্জক পদার্থ মেলানিন কম থাকলে এমন অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে পারে। একই বংশের মধ্যে প্রজননের কারণেও এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে একটি এমন হতে পারে বলেও জানান তিনি।

