আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে।
নভেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে অক্টোবর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করার পর সোমবারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহপথগুলোতে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়ার খবরও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো নিয়ে বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনার উদ্যোগও পিছিয়ে গেছে। এতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহপথগুলোতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব তেলের দাম ছাড়িয়ে পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

