নিজস্ব সংবাদদাতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এ ছাড়া তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেবেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের জন্যও জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে তিনি অংশ নেবেন। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানাবেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটকে চলমান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ব্যাপকতা, সংকট থেকে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে আবারও তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই সংকটের স্থায়ী সমাধান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারিত হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

