আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কিছু উপদেষ্টার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করা হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তীব্র হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির এখতিয়ার নেই। দলটি জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনকে অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। এনসিপি নিজেদের পদক্ষেপ সনদে স্বাক্ষরের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেবে।
সদ্য অনুমোদিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধন খসড়ায় আবারও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, জোটগতভাবে নির্বাচন করলে কোনো প্রার্থী চাইলে নিজ দলের প্রতীক অথবা জোটের অন্য দলের প্রতীকেও নির্বাচন করতে পারবেন। এর আগে খসড়ায় বলা হয়েছিল, কোনো দল জোটগতভাবে অংশ নিলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।
বিএনপি ও ছোট দলগুলো ওই বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় আরপিওতে সর্বশেষ পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন হবে। গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যকর করবে। গণভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপর থাকবে।
আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করতে পারে। এতে নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া একসঙ্গে বা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে থাকবে।

