টেক ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ সারির প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে স্পেসএক্স, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের তথা বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সম্ভাব্য আইপিও’র তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইলোন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেসএক্সের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মেনে অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার ইতিমধ্যে ১টির বিপরীতে ৫টি শেয়ারের ‘স্টক স্প্লিট’ বা শেয়ার বিভাজন অনুমোদন করেছেন। ফলে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ফেয়ার মার্কেট ভ্যালু ৫২৬ ডলার থেকে সমন্বয় করে ১০৫ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই দর মে মাসের শেষ নাগাদ পুরোপুরি কার্যকর হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে নাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াটি স্পেসএক্স বেশ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে এবং আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়েই প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিও হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

স্পেসএক্সের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকও পাবলিক মার্কেটে আসার প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক বড় বিনিয়োগের পর ওপেনএআই-এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে। আইপিও’র প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের রোবোটিক্স ও হার্ডওয়্যার বিভাগ আলাদা করার বিষয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তবে, অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আইপিও প্রক্রিয়াটি ২০২৭ সালের শুরুতে পিছিয়ে কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে গুগলের বিনিয়োগপুষ্ট ও বর্তমানে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়িত প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক করপোরেট ও আইনি সেবা খাতের জন্য বিশেষায়িত সফটওয়্যার বাজারে এনে তাদের পরিধি বাড়াচ্ছে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে আসার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে তাদের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে ব্যবসার আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সংবলিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এই তথ্য যাচাইয়ের পর শুরু হয় বড় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য ‘রোড শো’ পর্ব। সবশেষে বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এআই ও স্পেস ইন্ডাস্ট্রির এই শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে আগমন শুধু প্রযুক্তি খাতেই গতি আনবে না, বরং নতুন প্রজন্মের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে অংশ নেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করবে।

Share.
Exit mobile version