আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি হতে পারে সামরিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।
এই প্রস্তাবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মধ্যে নতুন ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাতে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জলবায়ু, আবাসন ও শিক্ষা খাতের কিছু কর্মসূচি বাতিল বা সংকুচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বাজেট প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যয়ের জন্য পেন্টাগনের চাওয়া অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার এই প্রস্তাবের বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত বাজেটের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ব্যয় সংকোচন করা হবে তথাকথিত ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক’ কর্মসূচি কমিয়ে এবং স্থানীয় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সামরিক ব্যয়কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, শিশু পরিচর্যা, মেডিকেইড বা মেডিকেয়ারের মতো সামাজিক কর্মসূচিগুলো রাজ্য পর্যায়ে পরিচালিত হতে পারে, তবে কেন্দ্রীয়ভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সামরিক নিরাপত্তাকে।
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা বহির্ভূত খাতে ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বা ৭৩ বিলিয়ন ডলার কমানো হয়েছে। নতুন বাজেট অনুযায়ী মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার পেন্টাগনের জন্য ঐচ্ছিক ব্যয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রেকর্ড পরিমাণ।
এছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদনের চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে আইন পাস করা সম্ভব।
বাজেটে সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি এবং জাহাজ নির্মাণে ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জাহাজ নিয়ে গঠিত ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ডিসেম্বরে উন্মোচিত ট্রাম্প-ক্লাস যুদ্ধজাহাজ এই পরিকল্পনার অংশ। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস ডিফায়ান্ট’ নামের প্রথম জাহাজটির নির্মাণ শিগগিরই শুরু হবে এবং আড়াই বছরের মধ্যে এটি কার্যকর হতে পারে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার সতর্ক করেছেন, জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা ও উৎপাদনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
এছাড়া বাজেটে ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে স্থল, সমুদ্র ও মহাকাশভিত্তিক সেন্সর ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, কেবল মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থার পেছনেই আগামী ২০ বছরে প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করতে পারে।

